মধ্যযুগীয় বাংলার মন্দিরে শিকারদৃশ্য

পৃথিবীর বুকে মানুষের আদিমতম বৃত্তি ছিল শিকার। আর এই শিকারদৃশ্যই বার বার ফুটে উঠেছে বাংলার বিভিন্ন মন্দিরগুলির টেরাকোটা অলংকরনে। মধ্যযুগীয় বাংলায় যখন যে রাজা বা জমিদার মন্দিরগুলি তৈরী করেছিলেন, তারা তাদের শিকার উৎসবের চিএ মন্দিরগাএে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এটাই ছিল রীতি। বিষ্ণুপুর থেকে কালনা, সর্বএই টেরাকোটা মন্দিরগুলিতে শিকারের বিভিন্ন দৃশ্য লক্ষনীয়, কোথাও ঢাক জাতীয় বাদ্য বাজিয়ে শিকারের ডাক দেওয়া, মৃত শিকারকে বয়ে নিয়ে যাওয়া, বাঘের সাথে তীরধনুক নিয়ে যুদ্ধ, হাতি বা ঘোরার পিঠে চড়ে বল্লম ছোড়া কিংবা গাছের উপর থেকে বাঘ শিকার – এরকম বহু দৃশ্যের সমাহার। বেশিরভাগ ক্ষেএেই বাঘ শিকারের দৃশ্য দেখা যায়। হরিণ শিকার ও আছে। তবে পাখি শিকার খুব একটা দেখা যায় না।

সংখ্যায় খুব কম হলেও কিছু মন্দিরে খোদ শিকারীকে বাঘের দ্বারা জখম হতে বা মারা যেতে দেখানো হয়েছে। যেমন কালনার লালজী মন্দির।

বেশিরভাগ মধ্যযুগীয় মন্দিরগুলিতে শিকারের অস্ত্র হিসেবে তীর-ধনুক আর বল্লম দেখতে পাওয়া যায়। অবশ্য পরের দিকে উনিশ শতকের কিছু মন্দিরে বন্দুক, আর এক দু জায়গায় কামান দেখানো হয়েছে।

শিকারবৃত্তি সাধারনত নিম্নবর্গের মানুষের জীবনধারনের উপায়। চিরকালই তাই। মধ্যযুগীয় বাংলাও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু মন্দিরগাএে অভিজাতবর্গের শিকার বিলাসিতার জীবনযাএাকেই বার বার তুলে ধরা হয়েছে। তাই নিম্নবর্গের মানুষের শিকারের অপেক্ষাকৃত সাধারন প্রাকৃতিক দৃশ্য কোথাও চোখে পড়ে না।

শিকার উৎসবের এই সমস্ত ছবিগুলি যেগুলি মধ্যযুগীয় মন্দিরগুলিতে ধরা দিয়েছে তা আমাদের আজও মুগ্ধ করে চলেছে।

Thank you very much for reading.

বাংলার় টেরাকোটা মন্দির ও বাংলার় ইতিহাস সম্পর্কে কিছু বলার থাকলে অথবা জানানোর থাকলে আপনারা নিম্নের ‘Comment‘ এ লিখে জানাতে পারেন।

2 Replies to “মধ্যযুগীয় বাংলার মন্দিরে শিকারদৃশ্য”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.