বাংলার টেরাকোটা মন্দির নির্মান

বাংলা মূলত সমতল ভূমি হওয়ায় এখানে মন্দির তৈরীর উপযোগী পাথর পাওয়া ছিল কঠিন। তাই আমরা এখানকার যত প্রাচীন মন্দির দেখতে পাই সেগুলোর প্রায় সবই টেরাকোটা (পোড়ামাটি)।

মন্দিরশিল্পীরা বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে মন্দির নির্মানের কাজ করত। তাদের প্রথম কাজ ছিল মন্দির নির্মানের উপযোগী মাটি তৈরী করা।

যে যে মিশ্রন টেরাকোটা মন্দির নির্মানে লাগত সেগুলো এইরূপ:

  1. খড়ুটি : মাটি এবং খড়ের মিশ্রন
  2. উলুটি : মাটি এবং উলুঘাসের মিশ্রন
  3. পাটুটি : মাটি এবং পাটের মিশ্রন
  4. তুষুটি : মাটি এবং কাঠগুড়োর মিশ্রন
  5. তুলুটি : মাটি এবং তুলোর মিশ্রন

এই উপাদানগুলি প্রয়োজন অনুপাতে মিশিয়ে, বারবার পায়ে করে মাড়িয়ে দলে এিফলার জলে ভিজিয়ে রাখা হত তিনমাস। অলংকরনের পর কাঁচা মাটির বর্জনযোগ্য অংশ বাঁশ বা কাঠ দিয়ে চেঁচে তুলে, প্রথমে রোদে শুকিয়ে এবং তারপর ভাটিতে পোড়ানো হত। নিপুণ কাজে ও অলংকরনে বালি ও শামুকখোল পোড়া (কলিচুন) প্রয়োগ করা হত।

টেরাকোটা মন্দিরগুলির প্রবেশদ্বার কাঠের তৈরী। প্রধানত শাল, সেগুন, নিম অথবা চন্দন কাঠ সরষের তেলে ডুবিয়ে রেখে নরম করে তার উপর কাজ করা হত।

Reference:

  • Bengal Temples by Bimal Kumar Dutta
  • বাংলার টেরাকোটা মন্দির by Sreela Basu & Abhra Basu

Thank you very much for reading.

বাংলার় টেরাকোটা মন্দির ও বাংলার় ইতিহাস সম্পর্কে কিছু বলার থাকলে অথবা জানানোর থাকলে আপনারা নিম্নের ‘Comment‘ এ লিখে জানাতে পারেন।

1 thought on “বাংলার টেরাকোটা মন্দির নির্মান

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.